রবিবার ১৪ জুন ২০২৬
Online Edition

বিডিআর হত্যাকাণ্ডের পুনঃতদন্ত দাবি

স্টাফ রিপোর্টার : পিলখানায় নৃশংস বিডিআর হত্যাকা-ের পুনঃতদন্ত, দোষীদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি এবং নির্দোষ বিডিআর সদস্যদের নিঃশর্ত মুক্তি দাবি করেছেন বিডিআরের সাবেক ডিজি মেজর জেনারেল শাকিল আহমেদের ছেলে ব্যারিস্টার রাকিন আহমেদ ভূঁইয়া। গতকাল শনিবার বিকেলে রাজধানীর ইঞ্জিনিয়ার্স ইনস্টিটিউশন হলরুমে আয়োজিত এক আলোচনা সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এ দাবি জানান। পিলখানা ট্রাজেডির ভুক্তভোগী ও নিরপরাধ বিডিআর বর্তমান অন্তর্বর্তী সরকারের কাছে দেশবাসী প্রত্যাশা’ শীর্ষক এ আলোচনা সভার আয়োজন করে বিডিআর কল্যাণ পরিষদ।

ব্যারিস্টার রাকিন আহমেদ ভূঁইয়া বলেন, ‘সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা, শেখ ফজলে নূর তাপস, শেখ ফজলুল করিম সেলিম সরাসরি পিলখানা হত্যাকা-ে জড়িত। তারা একটি বিদেশী রাষ্ট্রের (ভারত) সঙ্গে ষড়যন্ত্র করে দেশের সেনা অফিসারদের হত্যা করেছেন। কলঙ্ক লেপন করেছেন রাষ্ট্রের গুরুত্বপূর্ণ বাহিনীর ললাটে। আমরা এই হত্যাকা-ের পুনঃতদন্ত, দোষী ব্যক্তিদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি এবং নির্দোষ বিডিআর সদস্যদের নিঃশর্ত মুক্তি চাই। তিনি বলেন, পিলখানায় à§«à§­ সেনা কর্মকর্তা হত্যা করে বিডিআর বাহিনীকে ধ্বংস ও পথে বসানো এবং সেনাবাহিনীকে দুর্বল করার সুপরিকল্পিত প্রয়াস চালানো হয়। ফ্যাসিস্ট সরকার সুপরিকল্পিতভাবে এ ঘটনা ঘটিয়ে আমাদের অভিভাবকহীন করে ফেলে। শত শত নিরাপরাধ বিডিআর জোয়ান মিথ্যা মামলায় কারাগারে অবস্থান করছে। আজ পর্যন্ত তাদের মুক্তি মেলেনি। যারা কারাভোগ করছে, তাদের পরিবারগুলোও নিঃশেষ হয়ে গেছে। তাদের প্রতি সহযোগিতার হাত বাড়িয়ে অনতিবিলম্বে মুক্ত করে চাকরিতে পুনর্বহাল করতে হবে। এ কাজ করার মধ্য দিয়ে আপনি (প্রধান উপদেষ্টা) à§§à§® হাজার বিডিআর সদস্যের পরিবারের কাছে চিরস্মরণীয় হয়ে থাকবেন।

ব্যারিস্টার রাকিন আহমেদ ভূঁইয়া বলেন, ওই দিনের ঘটনায় যারা প্রকৃত দোষী তারা সকলে আইনানুগ শাস্তি ভোগ করুক, এটা আমাদের সকলের দাবি। আমি আবারও বলছি, জোর দিয়ে বলছি, ওই দিনের ঘটনায় যারা প্রকৃত দোষী তারা সকলে শাস্তি ভোগ করুক। আলোচনা সভায় বিডিআর কল্যাণ পরিষদের সভাপতি মো. ফয়জুল হক, ‘পিলখানা হত্যাকা-ের ন্যায়বিচার প্রতিষ্ঠায় ঐক্যের আহ্বায়ক অ্যাডভোকেট আব্দুল আজিজসহ ১৭টি শহিদ পরিবারের সদস্যরা উপস্থিত ছিলেন। 

বিডিআর কল্যাণ পরিষদের সভাপতি ফয়জুল হক লিখিত বক্তব্যে বলেন, গত ৯ আগস্ট সংগঠনের পক্ষ থেকে শাহবাগ, শাপলা চত্বর ও জাতীয় প্রেসক্লাবের সামনে মানববন্ধনসহ বিভিন্ন কর্মসূচি সম্পন্ন করে। ২৯ সেপ্টেম্বর জাতীয় প্রেসক্লাবে সাংবাদিক সম্মেলন প্রধান উপদেষ্টা, সেনাপ্রধান, বিজিবি মহাপরিচালক এবং কেন্দ্রীয় ছাত্র সমন্বয়ক বরাবর সশরীরে প্রতিনিধি টিমের মাধ্যমে সকল চাকরিচ্যুত জেলবন্দী ও ঘটনা পরবর্তী মৃত সকল ক্ষতিগ্রস্ত বিডিআরের পক্ষ থেকে স্মারকলিপি প্রদান করা হয়। এছাড়া স্বরাষ্ট্র উপদেষ্টা, আইন উপদেষ্টা এবং বিজিবি মহাপরিচালক বরাবর à§­ সদস্য বিশিষ্ট বিডিআর কল্যাণ পরিষদের একটি টিম সাক্ষাতের জন্য একাধিকবার আবেদন করা হয়। ইতোমধ্যে প্রতিটি জেলা থেকে বিডিআর কল্যাণ পরিষদের তত্ত্বাবধানে জেলা প্রশাসকের মাধ্যমে সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয় দপ্তরে ক্ষতিগ্রস্ত সকল জওয়ানদের প্রাণের দাবিগুলি স্মারকলিপি আকারে প্রেরণ করা হয়। বিডিআর হত্যাকান্ডের বিষয়টি গঠনমূলকভাবে উপস্থাপনের জন্য সর্বমহলে সর্বদা ঐকান্তিক প্রচেষ্টা অব্যাহত রাখা হয়েছে। 

তিনি বলেন, ২০০৯ সালের ২৫/২৬ ফেব্রুয়ারি পিলখানা হত্যাকান্ডের মাধ্যমে ৫৭ সেনা কর্মকর্তাকে হত্যা করে বিডিআর বাহিনীকে ধ্বংস ও পথে বসানো এবং সেনাবাহিনীকে দুর্বল করার সুপরিকল্পিত প্রয়াস চালানো হয়েছে। শত শত নিরপরাধ বিডিআর জওয়ান মিথ্যা মামলায় কারাগারে অবস্থান করছে। ষড়যন্ত্রের শিকার নিরপরাধ যে ভাইগুলি আজও কারাভোগ করছে। তাদের পরিবারগুলোও নিঃশেষ হয়ে গেছে। তাদর প্রতি সহযোগিতার হাত বাড়িয়ে অনতিবিলম্বে মুক্ত করাসহ আমরা যারা চাকরিচ্যুত হয়ে মানবেতর জীবনযাপন করছি তাদেরকে চাকরিতে পুনর্বহাল করার ক্ষেত্রে সার্বিক সহযোগিতা করে ১৮৫২০ জন বিডিআর পরিবারের কাছে স্মরণীয় হয়ে থাকতে সরকারের প্রতি আকুল আবেদন জানান। একইসঙ্গে ঐদিনের ঘটনায় যারা প্রকৃত দোষী তাদেরকে আইনের আওতায় এনে শাস্তি দেয়ার জন্য বিডিআর পরিবারের পক্ষ থেকে দাবি জানানো হয়।

অনলাইন আপডেট

আর্কাইভ